ময়মনসিংহের স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

এফএনএস (রকিবুল হাসান চৌধুরী রুবেল, ময়মনসিংহ) : | প্রকাশ: ২৯ জুলাই, ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
ময়মনসিংহের স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া হাবুন ব্যাপারী রোডে ২০১৯ সালে স্বামী শফিকুল ইসলাম সপু হত্যা মামলায় দ্বিতীয় স্ত্রী আফরোজা শেখ ইতিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সেইসাথে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়। বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে জেলার বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, নিহত শফিকুল ইসলাম শপু স্ত্রী মাহমুদা আক্তার ঝুমুকে বিয়ে করে আলাদা বাসায় বাস করতেন। কিছুদিন পর তাদের একটি ছেলে সন্তান হয়। পরবর্তীতে নিহত সপু নগরীর হাবন বেপারী এলাকার আসামী আফরোজা শেখ ইতির সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং তাকে বিয়ে করে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা বাসায় বসবাস করতে শুরু করে। কিন্তু বিয়ের পর সপু তার প্রথম স্ত্রী এবং সন্তানের সাথে যোগাযোগ রাখলে এ নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী ইতির সাথে সপুর প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। এমনকি প্রথম স্ত্রীকে আলাদা বাসায় রাখার বিষয়টিও দ্বিতীয় স্ত্রী মানতে পারছিলো না। সপু পরবর্তীতে প্রতশ স্ত্রী সন্তানকে তার মায়ের সাথে রাখতে বাধ্য হয়।

তারপরও সপু তার প্রতম স্ত্রী সন্তানদের দেখা করা তাদের খোঁজ তবর নেয়া কোনভাবেই মেনে নিতে পারছিলো না। এসবের এক পর্যায়ে দ্বিতীয় স্ত্রী ইতির সাথে ২০১৯ সালের ১০ জুন সন্ধ্যায় মায়ের বাসা থেকে খেয়ে আসা নিয়ে সপুর সাথে ঝগড়া ঝাটি হয়। সেদিনের  পর থেকে সপু নিখোঁজ হয়। এই মর্মে তার স্ত্রী সদর থানায় একটি জিডি করে। পরে ১৩ জুন তাদের বাসা সংলগ্ন একটি পচা পুকুরের কচুরী পানার ভিতরে একটি মানুষের হাত দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে সেখান থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সপুর মা ও তার স্বজনরা এসে সপু মরদেহ সনাক্ত করে।এঘটনায় ঐদিনই শপুর মা নুরুন্নাহার বাদী হয়ে ইতি ও তার ভাই দ্বীন ইসলামকে আসামী করে কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে পুলিশ সপুর দ্বিতীয় স্ত্রী ইতিকে গ্রেফতার করে। পরে মামলায় তদন্ত ও সাক্ষিদের সাক্ষ্যগ্রহন, আইনজীবীদের যুক্তি তর্ক শেষে আদালত অভিযুক্ত ইতিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সাজা প্রদান করেন। এছাড়াও অপর আসামী দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ার আদালত তাকে খালাস দেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে