নাটোরের লালপুরে সাইবার অপরাধ ও মাদকবিরোধী অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। পৃথক অভিযানে হ্যাকিং চক্রের পাঁচ সদস্য এবং ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। আটক ছয়জনকেই আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে লালপুর থানার এসআই মোঃ রুবেল হক, এএসআই মোঃ রায়হান ফেরদৌস, এএসআই মোঃ নাহিদ আলী ও সঙ্গীয় ফোর্স উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে মোহরকয়া বাজারের দক্ষিণে মৃত নাজিম উদ্দিনের ছেলে মোঃ সুমনের নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে বসে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনলাইন হ্যাকিং ও প্রতারণার সময় পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মোহরকয়া হাটপাড়া গ্রামের আদম আলীর ছেলে শিহাব আলী (২৫), হাফিজুর রহমানের ছেলে মজনু আলী (২৭), আমিরুল ইসলামের ছেলে মোহন আলী (৩২), মৃত সানোয়ার হোসেনের ছেলে হেলাল আলী (৩৪) এবং মৃত আবুল হোসেনের ছেলে হোসাইন আলী। পুলিশ জানায়, সংঘবদ্ধ এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও ইমো আইডিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করত। পরে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে আইডি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিভিন্ন কৌশলে অর্থ আদায় করত। ঘটনার পর রোববার (১৯ এপ্রিল) লালপুর থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ১৭(১)(ক)(খ)/২৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয় এবং গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়। থানার রেকর্ড ও সিডিএমএস যাচাইয়ে দেখা যায়, আটক মজনু আলী ও মোহন আলীর বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এদিকে একই দিনে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে লালপুর থানার এসআই মোঃ মুনসুপ আলী, এএসআই মোঃ আনছার আলী ও সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামে অভিযান চালান। এ সময় কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী আব্দুল করিম ওরফে কল্লা (৪৫) কে তার বসতঘর থেকে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করা হয়। আটক আব্দুল করিম মোহরকয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের আসমত আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে রোববার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, থানার রেকর্ড অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পূর্বের আরও ছয়টি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “সাইবার অপরাধ ও মাদক নির্মূলে পুলিশের চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।”