পাবনার ঈশ্বরদীতে মুলাডলি উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির কক্ষে কে বা কাহারা একটি কেমিকেলের বোতল রেখে যায়, সেটা জানা যায়নি। ওই বোতলটি যেকোনো ভাবে ভেঙে যাওয়ায় প্রথমে ষষ্ঠ শ্রেণি ও পরে পুরো স্কুলে বিষাক্ত গন্ধে অক্সিজেনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। এতে প্রায় ৬০ জন ছাত্রী অক্সিজেনের অভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অদ্ভুত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম অস্থিরতা বিরাজ করে।
আজ বুধবার (১৩ মে ) মুলাডুলি উচ্চ বিদ্যালয়ে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিষাক্ত কেমিকেলের গন্ধে ৬০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদেরকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের অ্যাম্বুলেন্স, সিএনজি ও অটোযোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। এরপর অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। খবর শুনে তাৎক্ষণিক ভাবে ঈশ্বরদী আটঘরিয়া (পাবনা ৪) আসনের সাংসদ অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল ও ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছাত্রীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে ছুটে আসেন।
মুলাডুলি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাসনা রাণী জানান, বেলা আনুমানিক সাড়ে ১২ পর প্রথমে দুইজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। খবর শুনে আমি ক্লাসে ছুটে যাই। ক্লাসে যাওয়ার পর দেখি আরো দুজন অসুস্থ হয়ে গেছে। আমি স্থানীয় ডাক্তার, ফায়ার সার্ভিস এবং থানায় ফোন করি। এরপর ক্রমান্বয়ে স্কুলের ৫০ থেকে ৬০ জন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফায়ার সার্ভিস এবং আমরা বিভিন্ন যানবাহনে করে ছাত্রীদের ঈশ্বরদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাই। ডাক্তার ছাত্রীদের দেখে বলেন, কয়েকজন অক্সিজেনের কারণে অসুস্থ হয়েছে। বাকিরা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা টিএইচও (ভারপ্রাপ্ত) ডাক্তার কাবেরী শাহ বলেন, মুলাডুলি উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে একটি পোকা মারার বিষের বোতল পড়েছিল। সেখান থেকে বিষাক্ত গন্ধ বের হওয়ায় প্রথমে দুইজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর আরো কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের দেখাদেখি ভয়ে আতঙ্কে ওই বিদ্যালয়ের ৫০- ৬০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের সকলকে স্লাইন ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সবাই বর্তমানে আশঙ্কা মুক্ত, অনেকে বাড়ি চলে গেছে। পাবনা ৪ আসনের সাংসদ অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, খবর শুনে তাৎক্ষণিক আমি হাসপাতালে ছুটে আসি। ওই স্কুলের কোন এক জায়গাতে পিঁপড়া মারার মতো বিষের বোতল পড়েছিল। সেই বিষের বিষ ক্রিয়াতে প্রথমে দুজন শিক্ষার্থী এবং পরে আরো কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ে। এদের দেখে ভয়ে আতঙ্কে ওই বিদ্যালয়ের ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। ডাক্তারদের কাছ থেকে শুনেছি এটা জোরালো কিছু নয়, অল্প সময়ের মধ্যে সকলে সুস্থ হয়ে যাবে। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের পাশ থেকে মানুষের ভিড় কমাতে হবে।