কলমাকান্দায় ঐতিহাসিক নাজিরপুর যুদ্ধদিবস পালিত

এফএনএস (রিনা হায়াত; কলমাকান্দা; নেত্রকোনা) : | প্রকাশ: ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৯ এএম
কলমাকান্দায় ঐতিহাসিক নাজিরপুর যুদ্ধদিবস পালিত

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক নাজিরপুর যুদ্ধদিবস-২০২৬।  মহান মুক্তিযুদ্ধের ১৯৭১ সালের ২৬ জুলাই নাজিরপুরে পাকহানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হওয়া সাত বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, নেত্রকোণা জেলা ইউনিট কমান্ডের উদ্যোগে এবং উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সার্বিক সহযোগিতায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। রোববার (২৬ জুলাই) দিনব্যাপী নাজিরপুর স্মৃতিসৌধ ও লেংগুরা ইউনিয়নের ফুলবাড়ি এলাকায় সাত শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। এ সময় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষকবৃন্দসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পৃথকভাবে শহীদদের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।  শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করে বাংলাদেশ পুলিশের একটি চৌকস দল এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে মসজিদ, মন্দির ও গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে লেংগুরা বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে ঐতিহাসিক নাজিরপুর যুদ্ধদিবস-২০২৬ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোণা জেলার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওয়াহিদুজ্জামান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শামছুজ্জামান আসিফ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা ইউনিট কমান্ডের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান তালুকদার, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল, নেত্রকোণা জেলা শাখার বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী, কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. এ. খায়ের এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, নেত্রকোণা জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারি চাঁন মিয়া।

বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ জুলাই নাজিরপুরের যুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য সাত বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবন উৎসর্গ করে যে আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, স্বাধীনতার চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ধারণে চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২৬ জুলাই সকালে দুর্গাপুরের বিরিশিরি থেকে পাকহানাদার বাহিনীর কলমাকান্দা অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার খবর পেয়ে কমান্ডার নাজমুল হক তারার নেতৃত্বে টাইগার কোম্পানির প্রায় ৪০ জন মুক্তিযোদ্ধা নাজিরপুর বাজারের বিভিন্ন প্রবেশপথে অ্যাম্বুশ নেন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর নিজ ক্যাম্পে ফেরার পথে নাজিরপুর কাচারির কাছে পাকবাহিনী অতর্কিত হামলা চালায়। মুক্তিযোদ্ধারা সাহসিকতার সঙ্গে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও একপর্যায়ে সাতজন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

শহীদরা হলেন-নেত্রকোনার আবদুল আজিজ ও মো. ফজলুল হক, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার মো. ইয়ার মামুদ, ভবতোষ চন্দ্র দাস, মো. নূরুজ্জামান, দ্বিজেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস এবং জামালপুরের মো. জামাল উদ্দিন। তাঁদের ভারত সীমান্তসংলগ্ন কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের ফুলবাড়ি এলাকায় ১১৭২ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে সমাহিত করা হয়। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও মুক্তিযুদ্ধের এই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে স্মরণ, শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক নাজিরপুর যুদ্ধদিবস পালিত হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে