জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ‘আমাদের লড়াই বিএনপির বিরুদ্ধে নয়। এই লড়াই চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও অপকর্মের বিরুদ্ধে।’রোববার (২৫ জুলাই) রাত সাড়ে সাড়ে ৯ টার দিকে ময়মনসিংহের ভালুকা স্মৃতিসৌধ চত্বরে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, ‘বিএনপি জামায়াত এনসিপি করেন সমস্যা নেই। কিন্তু যদি জুলুম, অন্যায়, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব শুরু হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে সবাইকে কথা বলতে হবে।’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস ও হাসপাতাল ধ্বংস হলে এর ক্ষতি কোনো নির্দিষ্ট দলের মানুষের হবে না; ক্ষতি মানুষ।’‘কেউ অন্যায় করলে শুধু দলীয় পরিচয়ের কারণে তার প্রতিবাদ না করা উচিত নয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা সবার দায়িত্ব। আমরা চাই, রাজনীতিতে ব্যক্তি ও দলীয় চাটুকারিতার পরিবর্তে যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হোক। তিনি ভালুকার রাজনীতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বলেন, ভালুকা আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চুর চাঁদাবাজি,টেন্ডারবাজি,ঝুট ব্যবসা দখল ও নানা অনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য বিএনপি শোকজ করেছে। কিন্তু যারা অন্যায়-অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট হওয়া দরকার। বহিষ্কার ও পুনর্বহালের নাটক করে জনগণের আস্থা অর্জন করা সম্ভব নয়।’ তিনি বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আব্দুল আওয়াল মিন্টু ভালুকা বনের জমি দখল নিয়েও কথা বলেছেন। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। ‘যেদিন মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা বন্ধ করে দেবে, সেদিনই স্বৈরাচার ও দখলদারত্ব শক্তিশালী হবে।’
পথসভায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী, সরকারের সমালোচনা করে বলেন ভালুকার এমপি ফখরউদ্দিন বাচ্চু চাঁদাবাজির উস্তাদ। তারেক রহমান চাঁদাবাজি,জমিদখল ও নানা অনৈতিক কাজের লিপ্ত থাকায় তাকে বহিস্কার করেছিল। পরে বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে মনোনয়ন দিয়ে এমপি বানিয়েছেন। এখন আবার চাঁদাবাজি,টেন্ডারবাজি,বনের জমিদখলসহ নানা অনৈতিক কাজে যুক্ত থাকায় কোন ব্যবস্থা না নিয়ে শোকজ করেছেন। তারেক রহমান সারাদেশের চাঁদাবাজদের মনোনয়ন দিয়ে এমপি মন্ত্রী বানিয়েছেন। যুগ্ম আহ্বায়ক কুরিগ্রাম ২ আসনের এমপি আতিক মুজাহিদ বলেন বর্তমান সরকার ফ্যাসিষ্টদের কারিগর দুনীতিবাজ ব্যাংক লুটেরা চুপ্পুর বিচার করছেন না। চপ্পুকে দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. জাহেদুল ইসলাম, বলেন আমি ভালুকা আসন থেকে নির্বাচন করেছিলাম। ভোট গ্রহনের দিন সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে সীল মেরে বিএনপির প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হয়েছে। সে একজন ভোট চোর,চাঁদাবাজ। ভালুকাবাসী এখন বুঝতে পারছেন। আরো বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ জেলার আহ্বায়ক এটিএম মাহবুব উল আলম, সদস্য সচিব মো. জসিম উদ্দিন, ভালুকা উপজেলার আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন, এনসিপি মনোনীত ভালুকা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম প্রমুখ।