পটুয়াখালীর গলাচিপায় মাছের ঘেরের পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ও চলাচলের সড়ক কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলার চরকাজলের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১৩৪ নং ছোট শিবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরে ছবি ও ভিডিও সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে সোমবার নজরে আসে। বিদ্যালয়ের ভবন ঘেঁষে মাটি কাটায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায়, ৫ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম সবুজের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বেড়িবাঁধের নিচ দিয়ে পাইপের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছিল। তবে পাইপ বন্ধ করে মাছের ঘের করায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ঘেরের পানি সরাতে ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের মাঠ কেটে পানি বের করে দেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ, মাঠ কাটার সময় স্থানীয়রা বাধা দিলেও ইউপি সদস্য তা উপেক্ষা করেন এবং হুমকি-ধমকি দেন।
স্থানীয় ফারুক শরীফ বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানিয়ে মাঠ কাটা হয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের মাঠ না কেটেও অন্য পথ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা যেত। এ বিষয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য ১০-১৫ দিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তুহিন বলে, “মাঠ কেটে ফেলায় আমরা খেলাধুলা করতে পারছি না। ভবনের পাশ ঘেঁষে মাটি কাটায় চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে।” এদিকে স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, যে ঘেরের পানি সরানো হয়েছে, ওই ঘেরের জমিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের একটা অংশ রয়েছে এবং সেখান থেকে তিনি লভ্যাংশ পান। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহাবুব মুঠোফোনে জানান, বিদ্যালয়ের একটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। তিনি বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে ফোন কেটে দেন। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম সবুজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
গলাচিপা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম ছগির বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকসহ কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, “বিদ্যালয়ের মাঠ কাটার ঘটনায় জড়িতদের গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।”