তাজা খবর:

গাজীপুরে বিধি লঙ্ঘনে ‘গা’ নেই ইসির                    পোল্যান্ডকে বিদায় করে টিকে রইল কলম্বিয়া                    জুতায় মিলল সাড়ে ৫ কেজি সোনা, মালয়েশিয়ার নাগরিক আটক                    অসুস্থ সৈয়দ আশরাফ, চিনতে পারছেন না প্রিয়জনদেরও                    গাজীপুর সিটি নির্বাচনে বিজিবি মোতায়েন                    টাকার চিন্তা আপনার যৌনজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে                    নিকারাগুয়া বিক্ষোভ: মানাগুয়া সংঘর্ষে শিশু নিহত                    হত্যা মামলায় খালেদার জামিন থাকবে কি না, জানা যাবে ২ জুলাই                    বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থা বাতিল করেছে মালয়েশিয়া                    নির্বাচনে জয় না এলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দায়ী : প্রধানমন্ত্রী                    
  • সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮, ১০ আষাঢ় ১৪২৫

অবশেষে বিয়ে করলেন বাপ্পা-তানিয়া

অবশেষে বিয়ে করলেন বাপ্পা-তানিয়া

বেশ কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন চলছিলো। অবশেষে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী বাপ্পা মজুমদার এবং

সুইডেনের কর্মকর্তা-খেলোয়াড়ের তোপের মুখে জার্মান ম্যানেজার

সুইডেনের কর্মকর্তা-খেলোয়াড়ের তোপের মুখে জার্মান ম্যানেজার

আগের দিন ড্রেসিংরুমের সামনে নেইমারের সঙ্গে রেফারির হাতাহাতির ঘটনা ঘটলো। সেই রেশ না

টাকার চিন্তা আপনার যৌনজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে

টাকার চিন্তা আপনার যৌনজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে

কথায় আছে ‘অর্থই সব অনর্থের মূল’। আবার এই অর্থই আপনাকে চিন্তামুক্ত রাখতে পারে।

গর্ভে দুলাভাইয়ের সন্তান, আপত্তি নেই বোনের!

গর্ভে দুলাভাইয়ের সন্তান, আপত্তি নেই বোনের!

তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা তিনি। তবে হঠাৎ করে সবাইকে জানালেন, তিনি নিজের গর্ভে তার

৯ বছরেও ঘরে ফিরতে পারেনি দাকোপে আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ কয়েকশ’ পরিবার

এফএনএস (কে, এম, আজগর হোসেন ছাব্বির: দাকোপ, খুলনা)

24 May 2018   04:08:29 PM   Thursday BdST
A- A A+ Print this E-mail this
 ৯ বছরেও ঘরে ফিরতে পারেনি দাকোপে আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ কয়েকশ’ পরিবার

সেই ভয়াল ২৫ মে, আইলার ৯ম বর্ষপূর্তি। ২০০৯ সালের এই দিনে উপকুলিয় জেলা খুলনার ২ টি উপজেলা প্রবল জ্বলোচ্ছাসের তোড়ে প্লাবিত হয়ে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। আইলা নামের ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দূর্যোগ আঘাত হানার পর একে একে ৯টি বছর অতিক্রান্ত হলেও আজো ঘুরে দাড়াতে পারেনি ক্ষতিগ্রস্থ জনপদের মানুষ। শত শত নিরাশ্রয় মানুষ এখন বেড়ীবাঁধের উপর মানবেতর জীবন যাপন করছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান বাঁধ নির্মান কাজ ধীর গতির মান নিয়ে আছে প্রশ্ন।
২০০৯ সালের ২৫ মে দেশের দক্ষিন পশ্চিম উপকুলিয় অঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে যায় ভয়াবহ প্রাকৃতিক দূর্যোগ আইলা। মুহুর্তের মধ্যে পানির তোড়ে ভেসে যায় খুলনার দাকোপ এবং কয়রা উপজেলার ওয়াপদা বেড়ীবাঁধ। দিনের আলোতে জ্বলোচ্ছাস আঘাত হানায় প্রানহানীর সংখ্যা কমানো গেলেও কেবল দাকোপে ২৩ জন মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। দাকোপের ২টি ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ আইলার তান্ডবে সব কিছু হারিয়ে বেড়ীবাঁধের উপর আশ্রয় নেয়। ওই সময়ের উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য মতে দাকোপে ২৯১৩২ পরিবারের ১০৩৭০০ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এ ছাড়া ৩২৮০ একর আবাদি জমি, ৩৩৪১৬টি বসতবাড়ী, ২৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৫৬৩ কিলোমিটার রাস্তা এবং ১১৮ কিলোমিটার ওয়াপদা বেড়ীবাঁধ সম্পূর্নরুপে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এ ছাড়া গবাদিপশু ও অন্যান্য সহায় সম্পদ মিলে ক্ষতির পরিমান কেবল দাকোপেই হাজার কোটি টাকার উর্দ্ধে। দেখতে দেখতে ৯টি বছর অতিক্রান্ত হলেও নানা কারনে আইলা আক্রান্ত মানুষের চোখে মুখে এখন হতাশা। সরেজমিন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দাকোপের আইলা বিধবস্থ দু’টি ইউনিয়ন সুতারখালী ও কামারখোলার কয়েকশ’ মানুষ এখন ঘরে ফিরতে পারেনি। সুতারখালী ইউনিয়নের কালাবগী, বাইনপাড়া ও গুনারী এবং কামারখোলার জালিয়াখালী, ভিটেভাঙ্গা  এলাকার শত শত পরিবার আজো ওয়াপদা বেড়ী বাঁধের উপর মানবেতর জীবন যাপন করছে। এদের অধিকাংশের মাথা গোজার শেষ আশ্রয় টুকু নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে কালাবগী শিপসা পাড়ের ভাঙনে আইলার মত ভয়াবহ পরিস্থিতির আশংকায় এলাকাবাসী। আইলায় দু’টি ইউনিয়নের অভ্যান্তরীন সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্নরুপে বিধবস্থ হয়। যা গত ৯ বছরে এখন পর্যন্ত রাস্তাগুলি পূর্ননির্মান করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা ঘুরে দেখা যায় কালাবগী ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের একটি এলাকার কয়েক শ’ মানুষ বেড়ী বাঁধের উপর টোং ঘর করে অনেকটা নদীর চরে ঝুলে বসবাস করায় ওই অঞ্চলটির নাম করন হয়েছে কালাবগী ঝুলন পাড়া। যাদের একটি অংশ বাস করে কালাবগী ৯ নং ওয়ার্ডের বিচ্ছিন্ন দ্বীপের উপর। চারিপাশে কোন বেড়ীবাঁধ নেই। কোন রকমে টোং ঘর করে আছে। নদীতে জোয়ার আসলে সাতরিয়ে এসে ওয়ার্ডের মুল ভুখন্ডের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে হয়। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের নৌকায় চড়ে অথবা বই খাতা হাতে নিয়ে সাতরিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। স্বাভাবিক অপেক্ষা নদীতে পানির চাপ একটু বেড়ে গেলেই তাঁদের জীবন শতভাগ হুমকির মুখে। এ যেন জীবন নিয়ে খেলা করা।
এখানকার জনগোষ্টির আয়ের উৎস্য বলতে কৃষি, চিংড়ীপোনা আর বনের সম্পদ আহরন। একদিকে জমিতে বালি এবং পলি পড়ে উল্লেখযোগ্য পরিমান আবাদী জমি চাষাবাদের অনুপযোগী, অপরদিকে ঋণের বোঝায় জর্জরিত কৃষকরা ইচ্ছে থাকলে ঠিকমত চাষাবাদ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। অপরদিকে সরকারী নিষেধাজ্ঞার কারনে অবাধে চিংড়ী পোনা বর্তমানে বন্দ আছে। এক কথায় বলা যায় খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান চিকিৎসা শিক্ষাসহ মৌলিক চাহিদা মিটাতে না পেরে বহু মানুষ এলাকা ত্যাগে বাধ্য হয়েছে। নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত দূর্গত এলাকার মানুষের যন্ত্রনার অপর নাম খাবার পানির সংকট। চলমান এই তীব্র তাপদাহে ২৫/৩০ কিলোমিটার দূর থেকে টপ প্রতি ২০/২৫ টাকা দামে পানি কিনে খেয়ে কোন মতে জীবন বাচাচ্ছে তাঁরা। কালাবগী ৯ নং ওয়ার্ডের বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চলের বাসিন্দা হারুন সানা রেজাউল সানাসহ অনেকেই নানা প্রশ্নের উত্তরে হতাশা প্রকাশ করে বলেন এখানে বেঁচে থাকায় আমাদের এখন দ্বায়। একই এলাকার গৃহবধু আনোয়ারা বেগম হতাশার প্রতিক্রিয়ায় বলে, “আসলে আমরা মানুষ না, হয় সৃষ্টিকর্তা আমাগে তুলে নিয়ে যাক, না হয় আমরা এদেশ ছাড়ে অন্য কোন জাগায় চুলে যাবো, আর সহ্য হয়না”। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ক্ষতিগ্রস্থ দু’টি ইউনিয়নের ৫২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মান কাজ ২০১৯ সালের ২৫ ফ্রেবুয়ারীর মধ্যে শেষ করার কথা।  চায়না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত মাত্র ২৫% ভাগ কাজ সমাপ্ত করতে পেরেছে। তার উপর সেই কাজের মান নিয়েও আছে নানা প্রশ্ন। চলমান বর্ষা মৌসুমে বাঁধের ঝুকিপূর্ন অনেক এলাকা নিয়ে জনমনে আতংক বিরাজ করছে। আইলা আঘাত হানার পর ৯টি বছর অতিক্রান্ত হলেও দায়িত্বশীলদের দায়িত্বহীনতা আর প্রকৃতির নিষ্ঠুর আচারন ক্ষতিগ্রস্থদের জীবন দূর্বিষহ করে তুলেছে । এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দাকোপ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ আবুল হোসেন শিপসা নদীর ভয়াবহ আচারনের কথা উল্লেখ করে বলেন, সাধারন বাঁধ ওই অঞ্চলকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ায় সরকার বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে উপযুক্ত বাঁধ নির্মানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করছি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দূর্যোগ ঝুঁকি অনেকাংশে কেটে যাবে। আর দাকোপে গভীর-অগভীর নলকুপ সফলতা না পাওয়ায় পানি সংকট নিরসনে কিছু পুকুর খনন করা হয়েছে, কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। আমরা চেষ্টা করছি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর বাস্তবায়নে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য পর্যাপ্ত ট্যাংকি বিতরন এবং রিজার্ভ হাউজ নির্মানের। এ ছাড়া ভুমিহীনদের মাঝে খাস জমি বরাদ্দের মাধ্যমে সকলকে পুর্নবাসনের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান। প্রতি বছর ঘুরে ফিরে এই দিনটি আসলে অনেকেই স্মরন করে আইলা দূর্গতদের দূর্দশার কথা। হয়ত আজো তার ব্যতিক্রম হবেনা, কিন্তু দিন চলে যাবার সাথে সাথে চলে যায় সকল দায়িত্ব কর্তব্য বোধ। তাইতো দীর্ঘ ৯টি বছর অতিক্রম হলেও আজো কাটেনি তাঁদের দূর্ভোগ। ভিটে হারা মানুষ গুলো যে কোন মুল্যে আপন গৃহে ফিরতে চায়। চায় নিম্নতম বেঁচে থাকার অধিকার।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
 
A- A A+ Print this E-mail this
আপনার পছন্দের এলাকার সংবাদ
পড়তে চাই:
Fairnews24.com, starting the journey from 2010, one of the most read bangla daily online newspaper worldwide. Fairnews24.com has the highest journalist among all the Bangladeshi newspapers. Fairnews24.com also has news service and providing hourly news to the highest number of online and print edition news media. Daily more then 1, 00,000 readers read Fairnews24.com online news. Fairnews24.com is considered to be the most influencing news service brand of Bangladesh. The online portal of Fairnews24.com (www.fairnews24.com) brings latest bangla news online on the go.
৪৮/১, উত্তর কমলাপুর, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন : +৮৮ ০২ ৯৩৩৫৭৬৪
E-mail: info@fns24.com
fnsbangla@gmail.com
Maintained by : fns24.net